গোকুল চারুকলা সংসদ

 


এই চিঠিটি “গোকুল চারুকলা সংসদ” এর শ্রী সুকান্ত বনিককে পাঠিয়েছি। 


‘গোকুল চারুকলা সংসদ’ নিয়ে দু একটা কথা জানানোর লোভ সামলাতে না পেরে আপনাকে লিখছি।  

ইন্টারনেটে কয়েকটা প্রতিবেদন পড়লাম, যার বিষয় ‘গোকুল চারুকলা সংসদ।‘ পড়ে প্রথমে আমরা অবাক হয়েছিলাম। আনন্দ যে হয়েছিল, সেকাথা বলাই বাহুল্য।  মনে মনে  আপনাদের অজস্র ধন্যবাদ জানিয়েছি।

গোকুল চারুকলা সংসদ, নিয়ে লেখাগুলোয় কিছু তথ্য বিভ্রাট হয়েছে। তারপর গুগল করে যে তথ্য পেলাম, সেখানেও বিভ্রান্তি রয়েছে।  প্রথমে ভেবেছিলাম, মানুষগুলোই যখন নেই, তখন শুখনো কিছু তথ্য সঠিক নাকি বেঠিক তা দিয়ে কি হবে? পরে আবার ভাবলাম ‘গোকুল চারুকলা সংসদ’ শুধুই যখন একটা ক্লাব নয়, একটা ইতিহাস, তখন তা সঠিক হওয়া বাঞ্ছনীয়। ধামরাই নিয়ে আমার আগ্রহ আছে একটি ব্যক্তিগত কারণে।

শ্রী গোকুল আচার্য আমার প্রপিতামহ। শ্রী দেবকুল আচার্য আমার দাদু। ষোড়শী আচার্য আমার ঠাকুমা। ১৯৪৭ সালে আমাদের পরিবার ভারতে চলে আসে। 

যাইহোক পরিবার সুত্রে আমার জানা কিছু তথ্য শেয়ার করলাম। 

 

নীচে কয়েকটি পয়েন্ট করে আমাদের বক্তব্য রাখলাম।

১) পদ্মবিভূষণ প্রাপ্ত ভারতীয় পণ্ডিত শ্রী গোপিনাথ কবিরাজ আদতে ধামরাই-য়ের মানুষ। তাঁর আত্মজীবনীতে গোকুল আচার্য র কথা সামান্য কিছু ( ৮ নম্বর পাতা ) আছে। সেখানে পুরনো ধামরাই নিয়ে অনেক কথা আছে। আমি বইটির পিডিএফ পাঠাচ্ছি। হয়ত আপনাদের কাজে দেবে।

১) শ্রী গোকুল আচার্যর দুই সন্তান। বড় ছেলে দেবকুল আচার্য। ছোট ছেলে রাধারমণ আচার্য। রাধারমণ আচার্য অনেক ছোট বয়েসে নিরুদ্দেশ হয়েছিলেন।  

২) গোকুল আচার্য দীর্ঘায়ু ছিলেন না। দেবকুলের বয়েস যখন ষোল তখন তিনি গত হলেন। আনুমানিক ১৯১৪-১৫ সাল। সম্পূর্ণ একা দেবকুলের দেখভাল করলেন, তাঁর খুরিমা।

৩) গোকুল আচার্য ত্রিপুরা রাজার সভায় নিয়মিত গায়ক ছিলেন। তাঁর অবর্তমানে দেবকুল আচার্য। ( যদিও আমি ডিজিটাল রেকর্ডে কিছু পাইনি। কিন্তু যাঁদের মুখে শুনেছি, তারা কেউ ভুল কথা বলার মানুষ ছিলেন না। তা ছাড়া আমি শুনেছিলাম মাধব মন্দিরের সঙ্গে একটা লাইব্রেরী ছিল, যেটা খান সেনারা পুড়িয়ে দিয়েছিল, সেখানে প্রচুর পুরনো নথি নষ্ট হয়েছে। এখনও কি তেমন কিছু আছে? থাকলে দয়া করে একটু জানাবেন। আমি সেই পুরনো ইতিহাসের খোঁজে আছি। )

৪) স্বদেশী যুগে দেবকুল আচার্য, চারণ কবি মুকুন্দ দাসে উৎসাহে “গোকুল চারুকলা সংসদ” ( এই নাম শুরু থেকেই ছিল কিনা তা অবশ্য জানি না) তৈরি করেন ১৯৩০ (?) সাল নাগাদ। উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের না না প্রান্তের শিল্পিদের মধ্যে একটা যোগাযোগের ব্যাবস্থা ও শৈল্পিক ধারাগুলোর সঙ্গে পরিচয় হওয়া।

৫) মুকুন্দ দাস বেশ কয়েকবার ধামরাইতে  আমাদের বাড়িতে এসেছেন এবং ছোট বড় বহু জমায়েতে স্বদেশী গান পরিবেশন করেছেন।

৬) দেবকুল আচার্য মূলত ছিলেন টপ্পা গাইয়ে। এবং বহু রকম তাল যন্ত্রে পারদর্শী ছিলেন।  

৭) দেবকুল আচার্য নয়। তাঁর বড় ছেলে দেবেশ আচার্য, ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায় কাছে  তালিম নিয়েছিলেন। তিনিও একজন উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শিল্পী ছিলেন।

 

এখন এইটুকই। আশাকরি আপনারা সকলে ভাল আছে। ধামরাই ভাল আছে। আপনাদের উদ্যোগ আরও বিস্তার লাভ করুক, সেই কামনা করছি।

ধন্যবাদ

সুবত আচার্য


Comments